জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া ২ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, এর মধ্যে পুলিশের ১ হাজার ৩৩০টি এবং ব্যক্তিগত মালিকানার এক হাজার অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় লুট হওয়া অস্ত্র প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, যেকোনো অস্ত্রই হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বিভিন্ন উপায়ে দেশে অস্ত্র প্রবেশের ঘটনাও ঘটে। তবে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনে পুলিশ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে বাহারুল আলম বলেন, আগামী ১৩ তারিখেই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বাহিনী সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন আইজিপি। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে পুলিশের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
পুলিশ সংস্কার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, ২০০৬-০৭ সাল থেকেই পুলিশ চেয়েছে কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, যাতে মামলা তদন্তসহ দায়িত্ব পালনের সময় সরকার বা রাজনৈতিক দলের কোনো নির্দেশনা না আসে। কিন্তু এখনো সেই স্বাধীনতা পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে পদোন্নতি ও পদায়নের বিষয়টি নিয়েও পুলিশ ভেতর থেকে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। পদোন্নতি ও পদায়নে পুলিশ কমিশনের ভূমিকা থাকলে তা বাড়তি সুবিধা দিত বলে তারা মনে করেন, তবে সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।
আইজিপি জানান, পুলিশের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হলেও অধ্যাদেশে তা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সেখানে কমিশন তিনজনের নাম সুপারিশ করবে বলা হলেও সরকার সেই সুপারিশ অনুসরণে বাধ্য থাকবে—এমন বিধান নেই। পুলিশের ভেতর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি উঠলেও এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।