‘কিচেন কেবিনেট’-এর সিদ্ধান্তে চলত অন্তর্বর্তী সরকার: সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই চক্রটিই নিতো এবং তারা প্রতি মঙ্গলবার যমুনাতে বৈঠকে বসত। এই প্রভাবশালী চক্রের হস্তক্ষেপ ও মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারের অস্বস্তির কথা ভেবে তা আর সম্ভব হয়নি।

এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বলেন, 'কিচেন কেবিনেটের সদস্যদের অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো।'

তিনি বলেন, 'আমি যমুনাতে তাদের একটি বৈঠকে একবার গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত কেউ কেউ নেয় এমন কথাবার্তা আমার কানেও আসত।'

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য কোনো শক্তির সক্রিয়তা নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, 'ডিপ স্টেট পৃথিবীর সব ঘটনার সাথেই যুক্ত থাকে। তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না, বরং স্রোতের সাথে থেকে পরিস্থিতি ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।'

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালীন অনেক বিষয় থেকেই তাকে অন্ধকারে রাখা হতো বলে জানান তিনি। বিশেষ করে, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, 'পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এতে সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এর সাথে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে চুক্তিটি সই করার বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ ছিল।'

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'এটি যে কাজে আসবে না তা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে প্রথা অনুযায়ী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়েছিল।'

নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৌহিদ হোসেনের মূল্যায়ন হলো, 'আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে শেষ হয়ে যাবে না। আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়, তাই আমার অনুমান তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।'

নতুন সরকার ও বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: ইত্তেফাক

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর সদ্য. থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সদ্য. গুলিস্তান থেকে আ.লীগের একাধিক নেতাকর্মী আটক সদ্য. সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্দেশনা সদ্য. পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সদ্য. সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী সদ্য. জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৩০ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত: মাহদী আমিন সদ্য. মার্কিন ভিসা নিয়ে বাংলাদেশীদের সতর্ক করল দূতাবাস সদ্য. সাইবার সুরক্ষা আইন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সংশোধনের সুযোগ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা সদ্য. সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর সদ্য. থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি সদ্য. গুলিস্তান থেকে আ.লীগের একাধিক নেতাকর্মী আটক সদ্য. সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্দেশনা সদ্য. পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর সদ্য. সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী সদ্য. জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে ১১ দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ৩০ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত: মাহদী আমিন সদ্য. মার্কিন ভিসা নিয়ে বাংলাদেশীদের সতর্ক করল দূতাবাস সদ্য. সাইবার সুরক্ষা আইন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সংশোধনের সুযোগ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা