বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'সচিবালয়ে গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। জ্বালানি সংকটকে অজুহাত দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া মূলত তাদের শিক্ষাজীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।'
গোলাম পরওয়ার অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাবগুলো তুলে ধরে বলেন, 'দরিদ্র শিক্ষার্থীরা উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে মূল শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। এছাড়া স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তির ঝুঁকি এবং নৈতিক অবক্ষয়ও বাড়ছে। সরাসরি শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার অভাব শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসকে প্রভাবিত করছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কোভিড-১৯ সময়কালের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী "ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট-২০২২" এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা বাংলা ও গণিতে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সচ্ছল অঞ্চলের তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জরিপে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ও শিশুশ্রম বৃদ্ধির তথ্যও উঠে এসেছে।'
তিনি জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন রাষ্ট্রের বিলাসিতাসহ অন্যান্য খাত সচল রেখে শুধুমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। সরকারকে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।
শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, 'অযৌক্তিক এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।'