চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ভূমি অফিসে আদালতের ভুয়া রায় ও ডিক্রির কপি দাখিল করে জমির রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টার অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আখতার উদ্দিনের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভূমি অফিসে একটি বিবিধ মামলার শুনানির সময় বাদীপক্ষ আদালতের একটি রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে ১৪৩ ধারামতে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করে। তবে দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে সহকারী কমিশনারের কাছে রায় ও ডিক্রির ফটোকপিগুলো সন্দেহজনক মনে হয়। বিশেষ করে বিচারকের স্বাক্ষর নকল বলে প্রতীয়মান হলে মামলার বাদী রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি দাখিল করা রায় ও ডিক্রির কপি সঠিক নয় বলে স্বীকার করেন।
পরে মামলার বিবাদীপক্ষের দাখিল করা আদালতের মূল রায় ও ডিক্রি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আদালত মূল মামলাটি খারিজ করেছিলেন। অথচ রফিকুল ইসলাম নিজের তৈরি একটি একতরফা ভুয়া রায়ের কপি আদালতের রায় হিসেবে উপস্থাপন করে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। শুনানির সময় অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে এ দণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর ভূমি অফিসে উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের সতর্ক করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভুয়া বা নকল কাগজপত্র দিয়ে নামজারি কিংবা মিস কেসের আবেদন করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে উম্মে সালমা রুমা গণমাধ্যমকে বলেন, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসের নিয়মিত অভিযান চলবে।
সদ্য সংবাদ/ এরআর