পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লা খনিতে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার শহরতলির ওই খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা প্রথমে সাত শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ধসে পড়া খনির অংশ থেকে আরও ২৭ জনের মরদেহ বের করে আনা হয়।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ) ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, খনির ভেতরে এখনো কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি খনি পরিদর্শক গনি বালুচ জানান, মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে উদ্ধার করা মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অন্যদিকে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা খনির বাইরে উৎকণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করছেন।
বেলুচিস্তানের খনি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী শোয়েব নোশেরওয়ানি দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি প্রতিটি নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ৫ লাখ পাকিস্তানি রুপি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং খনিগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এদিকে শ্রমিক সংগঠন ‘পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন’ দুর্ঘটনার জন্য খনি মালিকদের অবহেলাকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেলুচিস্তানের কয়লা খনিগুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ব্যবস্থা ও আধুনিক গ্যাস শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ঘাটতির কারণে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি জেনেও হাজারো শ্রমিক এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।