রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে নিরাপদে চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও অনেক পথচারী তা এড়িয়ে চলছেন। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নায় চলন্ত যানবাহনের ফাঁক গলে রাস্তা পার হচ্ছেন তারা। এতে নিজের জীবন বিপন্ন করার পাশাপাশি যান চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বিঘ্ন।
উত্তরার আজমপুর এলাকায় এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। রেলগেট ও বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত থাকায় সড়ক পারাপারে তৈরি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে রাজলক্ষ্মী, জসিমউদ্দীন ও বিমানবন্দর গোলচত্বর এলাকাতেও।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুটওভার ব্রিজে ওঠার সিঁড়ি ব্যবহার না করে অনেকেই সড়কের বিভাজক পার হয়ে যানবাহনের সামনে দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করছেন। পথচারীদের আকস্মিক পারাপারে চালকদের হঠাৎ গতি কমাতে বা ব্রেক করতে হচ্ছে। এতে পেছনের যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও বাড়ছে।
আজমপুর এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় তানভীর আহমেদ নামের এক চাকরিজীবী সদ্য সংবাদকে জানান, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে গেলে বাড়তি সময় লাগে এবং সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামায় শারীরিক কষ্ট হয়। এ কারণে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিনি অনেক সময় সরাসরি সড়ক দিয়েই পার হন। ঝুঁকি সম্পর্কে জানলেও অভ্যাসের কারণে এমনটি করেন বলে জানান তিনি।
তবে পথচারীদের এ ধরনের আচরণকে বিপজ্জনক মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান। তাঁর মতে, সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হওয়া কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে আজমপুরে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. রফিকুল ইসলাম সদ্য সংবাদকে বলেন, পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য নিয়মিত মাইকিং করে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু অনেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে হঠাৎ সড়কে নেমে পড়েন। এতে দুর্ঘটনা এড়াতে গিয়ে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। পথচারীদের সড়ক পারাপারে শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিভাইডারে উঁচু গ্রিল স্থাপন এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেটি ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সদ্য সংবাদ/এসএস