কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা পৃথক মামলায় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন-দেবীদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আল-আমিন অভি (২৯) এবং বরকামতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. আশরাফুল সরকার রাতুল (২০)।
পুলিশ জানায়, আল-আমিন অভি দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি আমিনুল ইসলাম সাব্বির হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় তার নাম ৪৪ নম্বরে রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আমিনুল ইসলাম সাব্বিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার পর থেকেই আল-আমিন অভি পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া আল-আমিন অভির বিরুদ্ধে সম্প্রতি মুরাদনগর থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলাতেও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মামলা করা হয়। সেই মামলায়ও অভি এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার আশরাফুল সরকার রাতুল দেবীদ্বারের বরকামতা ইউনিয়নের বাগুর গ্রামের বাবুল সরকারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খাদঘর এলাকায় ছাত্রলীগের প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল এবং নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগের তদন্তে তার নাম আসে। ওই ঘটনায় করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাব্বির হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আল-আমিন অভি এবং নাশকতার মামলার আসামি আশরাফুল সরকার রাতুলকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস