জামালপুরে বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ টাকার চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় চোরাই স্বর্ণালংকারের মধ্যে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণ ও ২৬ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে জামালপুর শহরের আমলাপাড়ায় মো. আনোয়ার হোসেনের ভাড়া বাসায় এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় জামালপুরে কর্মরত বিজ্ঞ বিচারক আহমাদুল কবির শাকিল ও তাঁর স্ত্রী বিজ্ঞ বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি বসবাস করতেন। চোরেরা জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, রুপার অলংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত, জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নাজির এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে ১ জুলাই জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৩। এতে দণ্ডবিধির ৩৭৯/৩৮০/৪৫৪/৪৫৭ ধারায় মামলা করা হয়।
পরে বিজ্ঞ আদালত স্বপ্রণোদিতভাবে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই, জামালপুরকে দেন। তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রুপন কুমার সরকার, পিপিএম-বার।
তদন্তে গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রাহুল (২৪) ও মো. বিশালকে (২১) গত ২৫ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়। ৩১ আগস্ট তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. দুখু মিয়াকে (২৪) ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মাসুদ রানাকে জামালপুর পৌরসভার বানিয়া বাজার এলাকা থেকে এবং মোশারফ হোসেনকে মাদারগঞ্জ থানার মিলন বাজার এলাকা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাসুদ রানা ও মোশারফ হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির ঘটনায় চোরাই স্বর্ণালংকার কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
অভিযানে মাসুদ রানার হেফাজত থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি করা ২৩ দশমিক ১৯ গ্রাম ওজনের এক টুকরো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে মোশারফ হোসেনের হেফাজত থেকে ৮ আনা ৫ রতি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি ওজনের রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা এসব সামগ্রী জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি করতে যায়। তাদের মধ্যে দুজন বাইরে পাহারায় ছিল এবং তিনজন জানালার গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা চুরি করে। পরে রেললাইনের পাশে বসে চুরি করা মালামাল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। এরপর স্বর্ণ ও রুপার একটি অংশ মাসুদ রানা ও মোশারফ হোসেনের কাছে পৃথকভাবে বিক্রি করা হয়।
এদিকে চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাহুল, বিশাল ও দুখু মিয়াকে আদালতে পাঠানো হলে তারা প্রত্যেকেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে