জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান মারা গেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার বনানীর নিজ বাসায় হঠাৎ স্ট্রোক করেন তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা চলছিল তাঁর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুহম্মদ শফিকুর রহমানের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মা আয়েশা খাতুন। শিক্ষা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
শিক্ষাজীবনে ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জনের পর চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন শফিকুর রহমান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রিও রয়েছে।
ছাত্রজীবনে ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
সাংবাদিকতা পেশায় দক্ষতা বাড়াতে জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণ নেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুইবার প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন শফিকুর রহমান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হন। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদে এ এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস