গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় দিয়ে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমি বলেছেন, তিনি কোনো আলেম বা শিক্ষককে অপমান করেননি; বরং একজন ‘দুশ্চরিত্র লম্পটকে’ থাপ্পড় দিয়েছেন। এ ঘটনায় তাকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন রুমি।
ভিডিওতে তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার এবং ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব চাপের মুখে মামলা থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন রুমি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে যাঁরা বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁদেরও সমালোচনা করেন তিনি। রুমির প্রশ্ন, ওই শিক্ষক নির্দোষ হলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে গিয়ে দুইবার ক্ষমা চাইতে গেলেন কেন? এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও ভুল তথ্য প্রচারের অভিযোগ তোলেন তিনি।
রুমি বলেন, একটি নির্দিষ্ট ঘটনার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আগে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। অভিভাবকেরা ধর্মীয় শিক্ষার জন্য সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠান; সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে রুমি আরও বলেন, তিনি মাদ্রাসা কিংবা আলেম সমাজের বিরোধী নন। আলেমদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো আলেম সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে গালিগালাজ ও সমালোচনা করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রুমি।
ভিডিও বার্তার শেষ দিকে তিনি জানান, এখন থেকে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চান। অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে জামিন না পান, সে লক্ষ্যে কাজ করার কথাও বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটির সূত্রপাত। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়ার পর শাহজালাল রুমি আলোচনায় আসেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস