দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ার থেকে ব্যাটারি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একটি আন্তজেলা চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত দুটি নোহা মাইক্রোবাস, দুটি ব্যাটারি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের বিষয়টি জানায়। পুলিশের হিসাবে, উদ্ধার করা ব্যাটারি দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ছয় লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহাগ (৩৪), সাহিদ হোসেন প্রকাশ শিবলু (৩২), মো. শামসুদ্দিন (৪১), মো. মোজাম্মেল হক (৩২), মো. ইউনূস (৪২) ও মো. সাইফুল ইসলাম স্বপন (৪৪)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথম পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ভুজপুর থানা-পুলিশ। পরে তাদের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কুমিল্লার লাকসাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে তার বাড়ি থেকে একটি নোহা মাইক্রোবাস ও দুটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার অন্যদের কাছ থেকেও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। উদ্ধার করা ব্যাটারিগুলো ভিশন ব্র্যান্ডের ৪৮ ভোল্ট ও ১০০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন।
পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার দুটি টাওয়ারে ব্যাটারি চুরির ঘটনায় এ চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। গত ৩১ আগস্ট ভোরে হেঁয়াকো বাজার এলাকায় গ্রামীণফোনের একটি টাওয়ারের বিটিএস কক্ষের লক গার্ড ভেঙে চারটি ব্যাটারি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর কয়েক দিন আগে একই থানার গার্ডের বাজার এলাকার আরেকটি টাওয়ার থেকে ছয়টি ব্যাটারি চুরি হয়।
এসব ঘটনায় গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ গত ৭ অক্টোবর ভুজপুর থানায় মামলা করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চুরি যাওয়া বাকি ব্যাটারি উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সদ্য সংবাদ/এসএস