ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা স্ট্রাইকিং ফোর্স না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে একাধিক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দীন ইসির সিনিয়র সচিবকে দেওয়া চিঠিতে জানান, বিচারিক আদালত পরিচালনার জন্য তিনি স্ট্রাইকিং ফোর্স চাইলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডার রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া ফোর্স দিতে অস্বীকৃতি জানান। শেষ পর্যন্ত তিনি মাত্র একজন পুলিশ সদস্য পান। একই ধরনের অভিযোগ ১০ ফেব্রুয়ারি বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরানও ইসিতে জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ফোর্স না পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি জানানোয় এক ক্যাম্প কর্মকর্তা বিচারক ইফতি হাসান ইমরানের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৮৯(২) ধারা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটের চাহিদা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স দিতে বাধ্য। কিন্তু বাস্তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এক প্লাটুন বিজিবি বা সেনাসদস্য পেলেও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র এক বা দুইজন পুলিশ সদস্য।
ইসি সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁরা ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুই দিন—মোট পাঁচ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিষয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি ইসিকে জানানো হয়েছে এবং কমিশন আশ্বাস দিয়েছে—প্রয়োজন হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা স্ট্রাইকিং ফোর্স পাবেন।
এ প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, নির্বাচনী অনিয়ম ও অপরাধ দমনে ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্সের তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।