স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সারা দেশে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। দেশের ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত মোট অস্ত্রের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৮৩। অর্থাৎ, এখনও ২০ হাজার ২৮৮টি বৈধ অস্ত্র বন্দোবস্তের বাইরে রয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আইজিপি বাহারুল আলম পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'প্রতিটি অনিবন্ধিত বা জমা না দেওয়া অস্ত্রই জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে থানায় লুট হওয়া ব্যক্তিগত অস্ত্র এবং অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা অস্ত্র মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।'
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব অস্ত্র ধারেরা নির্ধারিত সময়ে অস্ত্র জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, যে সকল অস্ত্র এখনও জমা পড়েনি তার একটি বড় অংশ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লাইসেন্সকৃত। অনেক অস্ত্রের মালিক বিদেশে পালিয়ে গেছেন বা দেশের ভেতরে আত্মগোপনে রয়েছেন।
আইজিপি আরও বলেন, 'নির্বাচনের সময়ে কোনো ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা রোধ করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং জনমনের মধ্যে আতঙ্ক কমাতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য।'
নির্বাচনের আগে অস্ত্রের অপব্যবহার রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ২০ হাজারের বেশি অস্ত্র নাগালের বাইরে থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বর্তমানে সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে কোনো ধরনের সশস্ত্র সহিংসতা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই একটি সংঘাতমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে এই অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।