বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ আদালতে উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে শুনানিকালে ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দির অংশ পড়ে শোনানো হয়।
আদালতে জানানো হয়, শিশুটির মুখ থেকে গলা পর্যন্ত পোড়ার দীর্ঘ দাগ রয়েছে, কপালে লাঠির আঘাত, হাতে বাঁশের লাঠি ও পোড়ার দগদগে ক্ষত, পায়ে খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকার দাগ, নখে মারধরের চিহ্ন এবং পিঠজুড়ে অসংখ্য আঘাত আছে। চোখের চারপাশে কালো দাগ, জ্বর ও মাথাব্যথায় ভুগছে শিশুটি। জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো, খাবার দেওয়া হতো না, মরিচের গুঁড়া চোখে দেওয়া হয়েছে, শীতের কাপড় ও পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয়নি; এমনকি টয়লেটের পানি ও বাথরুমের পেস্ট খেয়ে থাকতে হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রোবেল মিয়া এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল; নির্যাতনের কারণ ও সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা উদ্ঘাটনে রিমান্ড প্রয়োজন।
শুনানিতে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিথী আক্তার এক পর্যায়ে “একটি আঘাতের” কথা স্বীকার করেন। বিচারক তাঁদের বক্তব্যে অসংগতি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন এবং শিশুটির জবানবন্দির অংশ পড়ে শোনান।
শুনানি শেষে আদালত সাফিকুর রহমানের ৫ দিন, তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তারের ৭ দিন, গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের ৫ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।