মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জানান, তোফায়েল আহমেদ বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তিনি আদালতে হাজির হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে শারীরিকভাবে অক্ষম বলেও দাবি করেন।
আইনজীবী জানান, তোফায়েল আহমেদ কাউকে চিনতে পারছেন না এবং তার স্মৃতিশক্তি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ও বিচার কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সক্ষমতা হারিয়েছেন বলেও আদালতকে জানানো হয়। এ অবস্থায় তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার আবেদন এবং অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়।
তবে, এ আবেদনের বিরোধিতা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা আদালতকে জানায়, পলাতক আসামির এমন আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাকে আদালতে হাজির হয়ে আবেদন করতে হবে।
আদালত শেষ পর্যন্ত আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০০২ সালে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তৎকালীন পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করা হয়, যা পরে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তদন্ত শেষে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ সময় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকলেও তা প্রত্যাহারের পর মামলার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।