হলিউডের দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন–এর নায়ক দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে জীবনের স্বাদ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব জীবনের বাবুভাই প্রজাপতির ক্ষেত্রে সেই পরিণতি আর দেখা গেল না। তিন দশক ধরে বয়ে বেড়ানো ‘২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার’ অপবাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই না–ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন তিনি।
গুজরাট হাইকোর্ট গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাবুভাই প্রজাপতিকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। রায়ের পর খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমার জীবন থেকে কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন ঈশ্বর আমায় নিয়ে নিলেও কোনো দুঃখ নেই।” পরদিনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। আহমেদাবাদে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতির বিরুদ্ধে ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন আইনে মামলা হয়, ১৯৯৭ সালে চার্জশিট দাখিল এবং ২০০২ সালে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা দেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন বাবুভাই। কিন্তু মামলাটি নিষ্পত্তি হতে লেগে যায় আরও ২২ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে সামাজিক গঞ্জনা, মানসিক চাপ ও আইনি লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হতে হয় তাঁকে।
শেষ পর্যন্ত চলতি সপ্তাহে হাইকোর্ট রায়ে বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে গুরুতর অসংগতি রয়েছে এবং প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাবুভাইকে খালাস দেওয়া হয়।
বাবুভাইয়ের আইনজীবী নিতিন গান্ধী জানান, রায়ের দিন তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি তাঁকে বলেছিলাম, এখন সরকার থেকে বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরদিন ফোন করে জানতে পারি, তিনি আর নেই।”
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি