২০১৪ বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি কি এবারও ফিরবে, নাকি পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নতুন ইতিহাস লিখবে সুইজারল্যান্ড এমন প্রশ্নকে সামনে রেখেই জমে উঠেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ আটের ম্যাচে শনিবার (১১ জুলাই) রাত ১০টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক গ্রানিত জাকা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের হারের প্রতিশোধ নিতে নয়, বরং আর্জেন্টিনার মতো জয়ের ক্ষুধা নিয়েই মাঠে নামতে চান তারা।
জাকা বলেন, লাতিন আমেরিকার দলগুলোর লড়াইয়ের মানসিকতা তাদের বড় শক্তি। আর্জেন্টিনাও সেই জায়গায় একটি উদাহরণ। নিজেদেরও একই ধরনের আত্মবিশ্বাস ও তাড়না নিয়ে খেলতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হৃদয়ভাঙা হার দেখেছিল সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
সেই ম্যাচের স্মৃতি মনে করে জাকা বলেন, ২০১৪ সালে ম্যাচটি তার জন্য সুখকর ছিল না। ভালো খেলেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করতে হয়েছিল। তবে এবার নতুন প্রজন্মের সুইজারল্যান্ড অনেক বেশি শক্তিশালী বলে বিশ্বাস তার।
তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে আমরা ভালো খেলেছিলাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করি। এবার আমি মনে করি আমরা জিততে পারব। সুইজারল্যান্ডের ফুটবল অনেক উন্নতি করেছে।’
আর্জেন্টিনাকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানলেও নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রাখছেন সুইজারল্যান্ড অধিনায়ক। তার মতে, দলের অনেক খেলোয়াড় বিশ্বের শীর্ষ লিগে খেলছেন এবং বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন জাকা। তবে শুধু অংশ নিতে নয়, নিজেদের সেরাটা দিতেই মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই ম্যাচের জয়ী দল সেমিফাইনালে খেলবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীর বিপক্ষে।
এখন অপেক্ষা কানসাস সিটির মাঠের লড়াইয়ের। সুইজারল্যান্ড কি ২০১৪ সালের হারের জবাব দেবে, নাকি আর্জেন্টিনা আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেবে—তার উত্তর মিলবে ম্যাচের ৯০ মিনিটেই।