ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংকের অর্থ ফেরাতে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ ও বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট) সই করেছে। ‘নো উইন, নো ফি’ ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কাজ চলছে। তারা বিদেশে থাকা অর্থ ও সম্পদের অবস্থান শনাক্ত এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি সহায়তা দেবে।
তিনি জানান, প্রথম ধাপে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ছয়টি বড় মামলার ওপর কাজ শুরু করা হবে। পরবর্তীতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
এদিকে পাঁচটি একীভূত ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম-২০২৫’-এর আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি জানান, এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী প্রথম ধাপে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, তারল্য সংকটে থাকা অন্যান্য ব্যাংকের পরিস্থিতিও বাংলাদেশ ব্যাংক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন হলে সেগুলোর বিরুদ্ধেও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, আমানতকারীদের সুরক্ষা জোরদার করতে সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ব্যাংকগুলোকে ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকার বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।