রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজগেট এলাকায় মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২১ জুন) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা জানান, তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দলটির নেতাকর্মীরা গোপনে ছোট ছোট মিছিল, ব্যানার প্রদর্শন কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করতে পারে।
এ বিষয়ে শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক অপচেষ্টা প্রতিহত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং এটি একটি ‘মাফিয়া দল’। দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল, ব্যানার প্রদর্শন অথবা দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করতে পারে। এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে সারাদেশের থানাগুলোকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।