বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কণ্ঠ পরিবর্তন ও কৌশলী ফাঁদ পুলিশ জানায়, রাব্বি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডি খুলে নারী কণ্ঠে কথা বলে প্রথমে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপর ওই ফোনের কন্টাক্ট লিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট তরুণীর বন্ধু তালিকায় থাকা ছাত্রীদের টার্গেট করতেন। নারী কণ্ঠে কথা বলে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলার পর উপহার দেওয়ার কথা বলে তাদের যাত্রাবাড়ীর গোয়ালবাড়ী মোড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ডেকে নিতেন।
ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ তদন্তে জানা যায়, তরুণীরা দেখা করতে এলে তাদের জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখতেন রাব্বি। পরে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। গত দুই মাসেই এ ধরনের অন্তত ১৩টি ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী প্রত্যেক তরুণীর বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
গ্রেপ্তার ও উদ্ধার প্রাথমিকভাবে একটি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫ জন ভিকটিমের ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ আরও ১০টি নতুন অভিযোগের তথ্য পায়।
গ্রেপ্তারকৃত রাশেদুল ইসলাম রাব্বির স্থায়ী ঠিকানা মুন্সীগঞ্জের পুরান কামারগাঁ এলাকায়। তার বাবার নাম শাহজাহান মল্লিক। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।