যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা বন্ধ করতে একটি বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। যৌথ বা পৃথক এই অভিযানকে কেন্দ্র করে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে চারটি সূত্র, যা প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা নিরাপদ করা। এই ইউরেনিয়াম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্র গ্রেডে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের ভূখণ্ডে সেনা প্রবেশ ও অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় দুটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে—ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে আনা বা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সেটি স্থানেই লঘু করা। সম্ভবত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সদস্যরাও অভিযানে থাকবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কাউকে না কাউকে গিয়ে এটি নিয়ে আসতে হবে।’ ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেছেন, ‘স্থলসেনা পাঠানো সম্ভব—তবে তা কেবল খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে হবে।’ হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প সব বিকল্প খোলা রেখেছেন।
এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের জন্য দায়ী কৌশলগত ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের বিষয়েও ভাবছে।
যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে ইরানের প্রায় সব সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস হয়েছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। মজুতের বড় অংশ ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ টানেলে, বাকি ফোরদো ও নাতানজে বিভক্ত।
সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো ইরানের ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে অস্ত্র-গ্রেডে রূপান্তরিত হওয়ার আগে দমন করা। এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ মানে বড় সেনা মোতায়েন নয়; অভিযানটি ছোট পরিসরে এবং অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে হবে, ইরাক যুদ্ধের মতো ব্যাপক অভিযান নয়।