বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের গতিবিধির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখছে। তাঁর ভাষায়, “ইরানের দিকে একটি বড় শক্তি এগোচ্ছে। আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য এই বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।”
এর আগে ইরান ইস্যুতে সামরিক হুমকি থেকে কিছুটা পিছু হটার পরও ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর সামরিক হুঁশিয়ারির কারণেই ইরান সরকার ৮০০’র বেশি বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এ ধরনের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক নিবন্ধে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান তার হাতে থাকা সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করে পাল্টা জবাব দেবে। তাঁর দাবি, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ শক্তিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতেই তারা সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইরান সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে।
আরাঘচি আরও বলেন, “সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হলে তা হবে ভয়াবহ এবং ইসরায়েল ও তাদের মিত্ররা যে সময়সীমা কল্পনা করছে, তার চেয়েও অনেক বেশি দীর্ঘায়িত হতে পারে।”
সূত্র: আল জাজিরা