ইসরাইলের অব্যাহত সামরিক অভিযানের মুখে পিছু না হটার ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম। মঙ্গলবার ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ফাউন্ডেশনের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না এবং পূর্ণ শক্তি দিয়ে ইসরাইলি আগ্রাসনের মোকাবিলা করবে।
নাঈম কাসেম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি হিজবুল্লাহর জন্য কেবল একটি যুদ্ধ নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। তাঁর ভাষায়, হিজবুল্লাহর অবস্থান সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক; এতে আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, হিজবুল্লাহ ও লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন একটি ‘অস্তিত্ব বিনাশী আগ্রাসনের’ মুখে রয়েছে। “শত্রুপক্ষ আমাদের ভূমি দখল করে রেখেছে। এই মাতৃভূমি আমাদের—এর এক ইঞ্চি জমিও আমরা ছাড়ব না,” বলেন তিনি। যতদিন লেবাননের জনগণের কোনো অংশ আক্রান্ত হবে, ততদিন প্রতিরোধ চলবে বলেও জানান কাসেম।
পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা’র অজুহাতে পশ্চিমা সরকারগুলো আসলে একটি ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন দিচ্ছে। তাঁর মতে, নিরাপত্তার নামে আধিপত্য বিস্তারই তাদের মূল লক্ষ্য।
ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে নাঈম কাসেম বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে তারা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বেসামরিক ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও পৌরসভায় হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ প্রত্যাখ্যান করে কাসেম বলেন, নিরস্ত্রীকরণের দাবি আসলে সংগঠনটির অস্তিত্ব মুছে ফেলার প্রথম ধাপ। তাই আত্মসমর্পণের বদলে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র পথ।
এ সময় তিনি লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান। যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে বড় ত্যাগ স্বীকার করেছে—তাদের ওপর রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ আরোপ করা অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর