ইসরায়েলি নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে হবে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে কাতার এয়ারওয়েজসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
সংঘাতের ছাপ লক্ষ করা গেছে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও। কুয়েতের আল জাহরা শহরে একটি মার্কিন ‘এফ-১৫’ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ধোঁয়ার ঊর্ধ্বমুখী অন্ধকারে আতঙ্কের ছায়া দেখা গেছে। দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছে।
বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কবার্তা বাজানো হয়েছে, এবং কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলেও শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে; আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আসা মিসাইল ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরাকি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ এবং আহত ১৪৯। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক অভিযান’ ঘোষণা করে ইসরায়েল, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রামে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।
সাইপ্রাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটিতে একটি শাহেদ ড্রোন আঘাত হেনেছে, তবে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলাইডেস স্পষ্ট করেছেন, সাইপ্রাস কোনো সামরিক অভিযানের অংশ নয়।
ইরানেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সানান্দাজ শহরে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দুই জন নিহত, তেহরানে আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক হামলা হয়েছে মিনাবে, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় লক্ষ্য করে আঘাতে ১৬০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।
তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি বলেছেন, “ইরান কেবল আত্মরক্ষা করছে এবং যুদ্ধ শুরু করেনি।”
বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি বলেছেন, ইরানের নেতৃত্ব আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। ইসরায়েল লেবানন ও ইরানে হামলা জোরদার করছে, এবং পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত চালাচ্ছে।
মানবিক বিপর্যয় ও সামরিক উত্তেজনা একসাথে মধ্যপ্রাচ্যকে এখন এক তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।