শুক্রবার (২০ মার্চ) ইস্তাম্বুলে দেওয়া এক ভাষণে এরদোয়ান দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর উসকানিতে শুরু হওয়া ইরানকেন্দ্রিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসরায়েলের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'একটি ‘জায়নবাদী গণহত্যা নেটওয়ার্ক’ গাজায় ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'
এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইরান যুদ্ধের অজুহাতে ইসরায়েল মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদে ইবাদত বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণবাদী নীতিও জোরদার করা হয়েছে।
লেবাননের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় সেখানে প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেনসহ বৈশ্বিক সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল তাদের আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শোকাহত মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে গাজাবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
এদিকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'তুরস্কের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ঈদ উপলক্ষে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই সাময়িক শান্তি স্থায়ী রূপ নেবে।'
দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয় বন্ধ হওয়া এবং সাধারণ মানুষের শান্তিতে ঈদ উদযাপনের সুযোগ তৈরি হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে এরদোয়ান বলেন, 'তুরস্কের এ ধরনের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।'