জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশক হিসেবে উল্লেখ করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দেশকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. কে এম বাবর।
দিবসটি উদ্যাপনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে সকালে প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।
প্রধান অতিথি ডা. কে এম বাবর আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই তাঁর নীতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য বলেন, সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে গোবিপ্রবিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের মূল শিক্ষা হলো ব্যক্তি ও দলের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখা। বাংলাদেশকে ভালোবাসলে সবাইকে এই নীতি ধারণ করতে হবে। দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনার দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এদিন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন এবং তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সংকটকালে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি উত্তরণে ভূমিকা রেখেছিল। সেই সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এজে