চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে একটি বাসা থেকে অনলাইন প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ দেশের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। অভিযানের সময় তাদের ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
শুক্রবার বিকেলে সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলশীর একটি আবাসিক এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে একটি ভাড়া বাসা থেকে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ভাড়া নেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই বাসাটি ব্যবহার করে তারা অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
সিএমপির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তাররা এর আগেও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দেশি-বিদেশি আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ আরও বলছে, চক্রটির সদস্যরা প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনুমোদন ছাড়া ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে ১৩৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এর পাশাপাশি একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, স্যামসাং মনিটর, কিবোর্ড, মাউস ও প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সিএমপি। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে যুক্ত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস