শেরপুরের শ্রীবরদীতে কবর দেওয়ার জায়গা না পেয়ে নিজ বসতঘরের এক পাশে দাফন করা হয়েছে করিম মিয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে। উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
করিম মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় করিম মিয়ার নিজস্ব জমিজমা থাকলেও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ধীরে ধীরে সব জমি বিক্রি করতে হয়। পরে বাবার চিকিৎসার খরচ জোগানো ও বসতভিটা রক্ষার জন্য বড় মেয়ে কোতুলী বেগম তাঁর ফুফুর কাছ থেকে বসতঘরসহ তিন শতাংশ জমি কিনে নেন। জমিটি কেনার পরও ওই ঘরে করিম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী সাজেদা খাতুন বসবাস করছিলেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে করিম মিয়ার মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাঁকে দাফনের কথা থাকলেও কবর দেওয়ার মতো নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় বিপাকে পড়ে পরিবারটি। পরে নিরুপায় হয়ে বসতঘরের এক পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
করিম মিয়ার বড় মেয়ে কোতুলী বেগম বলেন, ‘আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। বাবাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার মতো কোনো এক টুকরো জমিও আমাদের নেই। এলাকায় কোনো সরকারি কবরস্থান না থাকায় নিরুপায় হয়ে আমরা ঘরের ভেতরেই বাবার দাফন সম্পন্ন করেছি।’
বর্তমানে বসতঘরের এক পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন করিম মিয়া। অন্য পাশে বসবাস করছেন তাঁর শোকার্ত স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৬০)। স্থানীয়দের মতে, এলাকায় সরকারি কবরস্থান থাকলে পরিবারটিকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে করিম মিয়াকে যথাযথ মর্যাদায় অন্যত্র দাফনের ব্যবস্থা করতে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর