সুনামগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। রোগীর অতিরিক্ত চাপে ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। শয্যা না পেয়ে বারান্দা, করিডোর ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক শিশুকে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৭৬ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে ১৫৩ জনই শিশু। জেলার দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে নতুন রোগী।
তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। তবে কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা না নেওয়া শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
হাসপাতালের অষ্টম তলায় শিশু ও আইসোলেশন ইউনিটে জায়গার সংকট এতটাই প্রকট যে একই কক্ষে একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চাপের মুখে পড়ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। স্যালাইন, ক্যানুলা, ইনজেকশনসহ বিভিন্ন উপকরণ বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি নার্সদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং ভর্তি থাকা রোগীদের যথাযথ সেবা না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন স্বজন।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আলী আশরাফ সোহাগ এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় এক হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যেসব শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৩৮। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৭ জন। একই সময়ে বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭৪ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।
চিকিৎসকদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত রোগীর ভিড় এবং একই কক্ষে একাধিক রোগীর অবস্থানের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্গম হাওরাঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদ্য সংবাদ/এজে