শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে নিজের জমি ছয় মেয়ের নামে লিখে দেওয়ার পর বসতঘরে প্রবেশ করতে পারছেন না ৮০ বছর বয়সী আব্দুর ছাত্তার খান। তাঁর অভিযোগ, জমি হস্তান্তরের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে ভাই, ভাতিজা ও ভাগিনা ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি রান্নার চুলা ভাঙচুর, বাড়ির গাছ কেটে ফেলা এবং চলাচলের পথ আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার সখিপুর থানাধীন ডিএমখালী ইউনিয়নের মাঝিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র। এরপর থেকে অসুস্থ এই বৃদ্ধকে বাড়ির উঠানে খোলা আকাশের নিচে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর ছাত্তার খানের কোনো ছেলে নেই। তাঁর ছয় মেয়ে। নিজের সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য এক মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় জমি মেয়েদের নামে লিখে দেওয়ার খবর জানতে পারেন তাঁর ভাই মোস্তফা খান, ভাতিজা ইমরান খান ও ভাগিনা এনামুল শিকদার। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
বৃদ্ধের ভাষ্য, বাড়িতে ফিরে তিনি দেখতে পান, বসতঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। বাড়ির ফলদসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ঘরের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে ঘরে প্রবেশের দরজা ও চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। রান্নার চুলাও ভেঙে ফেলা হয়েছে। বারবার অনুরোধ করেও তালা খুলতে পারেননি তিনি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় আব্দুর ছাত্তার খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় নিজের সম্পত্তি ছয় মেয়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের পর ভাতিজা ও ভাগিনার কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। অসুস্থতার কারণে মেয়ের বাড়িতে থাকার পর বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে ফিরে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েন। স্ট্রোকের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে না পারায় ঘরের সামনে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তাঁর।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোস্তফা খান, ইমরান খান ও এনামুল শিকদারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদ্য সংবাদ/এজে