ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শনিবার বসছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাশাপাশি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্ন করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
বিশ্বনেতাদের যাতায়াতের পথসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা নজরদারি। ভিভিআইপি চলাচলের রুটে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে বিশেষায়িত কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকে বিশ্বনেতাদের বহরের চলাচল এবং নয়াদিল্লির সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সম্মেলনে অংশ নিতে এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানসহ ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এবারের সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ফলে বৈঠকের আলোচনায় বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক লেনদেনে বিকল্প মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়েও নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও শীর্ষ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব ক্রমেই বাড়ায় নয়াদিল্লির এই সম্মেলনের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। এবারের বৈঠক থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে কী ধরনের বার্তা আসে, সেদিকেই এখন দৃষ্টি বিশ্লেষকদের।
সদ্য সংবাদ/এসএস