ধর্মীয় পরিচয়, পোশাক ও অভিবাসী শিকড় নিয়ে নানা আক্রমণের মুখেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন পাঁচ মুসলিম নারী। তাদের এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিজয়ীদের মধ্যে চারজন অঙ্গরাজ্য সিনেট এবং একজন কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের নির্বাচনী লড়াই, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিজয়ী হওয়ার গল্প।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের সময় এসব নারী প্রার্থীকে ধর্মীয় পরিচয় ও হিজাব পরার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ডানপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার মধ্যেও তারা নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যান।
বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে অভিবাসন ও মুসলিম পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। নির্বাচনের আগে মুসলিম ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রে অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল।
বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় যারা
জর্জিয়ায় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রুয়া রোমান নির্বাচিত হয়ে রাজ্যটির রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিবেদনে তাকে জর্জিয়ার আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম হিজাবধারী মুসলিম নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বের দাবিতে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি অভিবাসী আবের কাওয়াস। তার পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণ ও অভিবাসন নীতির বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাবা ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে আটক হয়েছিলেন এবং পরে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নাগরিক অধিকার ও অভিবাসন ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন কাওয়াস।
ইলিনয়ে নির্বাচনী সাফল্য ধরে রেখেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাবিলা সৈয়দ। মাত্র ২৭ বছর বয়সে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে ওয়াশিংটনে প্রকাশিত একটি চিঠিতেও স্বাক্ষর করেছিলেন এই আইনপ্রণেতা।
অন্যদিকে, কানেকটিকাটে জয় পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মরিয়ম খান। দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন তিনি। এর আগে বিশেষ শিক্ষা-সংক্রান্ত একটি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশের অধিকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেছেন, নিজস্ব ঐতিহ্যকে ধারণ করা দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিপন্থী নয়।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম নারীদের এই সাফল্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাক নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচনী লড়াইয়ে তাদের জয় মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস