বৃষ্টির পরও রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসে ঢাকা।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের হিসাব অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ১৩২। এই মাত্রার বায়ু সংবেদনশীল শ্রেণির মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ওই সময় ১৯১ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার স্কোর ছিল ১৬৬। এরপর ঢাকার অবস্থান।
তালিকায় ১২৭ স্কোর নিয়ে কঙ্গোর কিনশাসা ছিল চতুর্থ এবং ১১৯ স্কোর নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পঞ্চম। উগান্ডার কাম্পালা ১১০ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ, জেরুজালেম ১০৯ নিয়ে সপ্তম, পাকিস্তানের লাহোর ১০৫ নিয়ে অষ্টম, জোহানেসবার্গ ১০৩ নিয়ে নবম এবং সিঙ্গাপুর ১০২ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে ছিল।
আইকিউএয়ারের তথ্য বলছে, ঢাকার বায়ুদূষণে বড় ভূমিকা রয়েছে পিএম ২.৫ কণার। আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র এসব কণা শ্বাস নেওয়ার সময় ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এর সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর বায়ুদূষণের পেছনে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজ থেকে ছড়ানো ধুলা, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং ইটভাটার ধোঁয়ার মতো উৎসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আবহাওয়ার কিছু পরিস্থিতিতে বাতাসে দূষিত কণা আটকে গিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বায়ুমানের মাত্রা বোঝাতে একিউআই সূচকে ৫০ পর্যন্ত স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত বায়ুর মান মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য তা অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর ওপরে গেলে বায়ু বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস