সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই গানের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি সংগীতচর্চায় যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে নিজেকে বাউল গানের জগতে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠের অধিকারী সুনীল কর্মকার একাই যেকোনো আসর মাতিয়ে তুলতে পারতেন। কণ্ঠসংগীতের পাশাপাশি তিনি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তার গান শুনেই তিনি বাউল সাধনার পথে নিজেকে সমর্পণ করেন।
ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর করে কণ্ঠ দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। এসব গানের মধ্যে অনেকগুলোই শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পাশাপাশি তিনি নিজেও প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সুনীল কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তার অবদান এ ধারার সংগীতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি শুধু একজন শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এক নিষ্ঠাবান ধারক। একতারা ও দোতারার ছন্দে তার কণ্ঠের বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করত। তার গানে জীবনদর্শন, মানবপ্রেম ও স্রষ্টার প্রতি ভক্তির বাণীই প্রাধান্য পেত। ‘মানুষ ধরো মানুষ ভোজ’— ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর সেই কালজয়ী গানে কণ্ঠ দিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
কেন্দুয়া জালাল পরিষদের সদস্য আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বাউল সুনীল কর্মকার ছিলেন জালাল ভাবশিষ্য এবং একজন কালজয়ী শিল্পী। তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তার মৃত্যুতে কেন্দুয়াসহ পুরো নেত্রকোনা জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।'