ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। এর ফলে ঋণখেলাপি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ আটকে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদী প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইনজীবী বিভূতি তরফদার।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং তার বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি টাকা ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকাভুক্ত ছিলেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই তালিকা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।
এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক চেম্বার আদালতে আবেদন করে। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
বিভূতি তরফদার বলেন, ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না, ফলে এই আদেশের কারণে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আদেশ বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে যাওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন সাইফুল্লাহ মামুন। তিনিবলেন, তার মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন এবং ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির বিপরীতে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। সূত্র: আজকের পত্রিকা