তরুণ সংস্কারপন্থীদের জন্য এটি বড় ধাক্কা। নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে মূল ভূমিকা রাখে থাইল্যান্ডের মিশ্র ভোটব্যবস্থা। এবার ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দিয়েছেন—একটি নিজের এলাকার প্রার্থীর জন্য, আরেকটি জাতীয় দলীয় তালিকার জন্য।
দলীয় তালিকায় পিপলস পার্টি প্রায় এক কোটি ভোট পেয়েছে, যা ভূমজাইথাইয়ের ৬০ লাখ ভোটের তুলনায় বেশি। তবে দেশটির সংসদের মাত্র ২০ শতাংশ আসন আসে দলীয় তালিকা থেকে, বাকি ৮০ শতাংশ আসন নির্ধারিত হয় স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। শহরকেন্দ্রিক এবং নতুন দল হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে পিপলস পার্টির শক্ত ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতাদের ওপর প্রভাব রাখে ভূমজাইথাই।
আনুতিন তার দলের মধ্যে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের যুক্ত করে ২০১৯ সালে মাত্র ৫১ আসন পাওয়া দলটিকে জাতীয় পর্যায়ের শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত করেছেন। এবারের নির্বাচনে সংস্কারপন্থীরা কোনো একক ইস্যুতে আলাদা নজর আকর্ষণ করতে পারেনি। উল্টো, রাজপরিবার অবমাননা সংক্রান্ত তাদের দাবি আদালতে ব্যবহার হওয়ায় পার্টি ভেঙে যায় এবং শীর্ষ নেতাদের রাজনীতি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে।
অন্যদিকে, আনুতিন রক্ষণশীল ভোটারদের বড় অংশকে নিজের দলে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। সীমান্ত ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী অবস্থান, সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন এবং রাজার প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য তাকে থাইল্যান্ডের রক্ষণশীল রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে এক অপ্রত্যাশিত মোড় এনেছে, যা তরুণ সংস্কারপন্থীদের জন্য বড় ধাক্কা।