রাজধানীর উত্তরায় এক ব্যক্তিকে একটি প্রাডো গাড়িসহ অপহরণ এবং এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীকে আহত করে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অপহৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম মাহবুব আলম। তিনি বর্তমানে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে আব্দুল্লাহ ইসমে আজম শনিবার বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। মাহবুব আলমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। তিনি উত্তরার আলাল গ্রুপে প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত।
উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ ও আহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর সড়কের ২৪ নম্বর বাড়ির সামনে একটি সাদা প্রাডো জিপ এসে থামে। ওই গাড়িতে নিরাপত্তাকর্মী মাহবুব আলম ও অপহৃত ব্যক্তি ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেল ও একটি কালো মাইক্রোবাসে করে সাত থেকে আটজন এসে প্রাডো জিপটির পথরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে আসা ব্যক্তিরা মাহবুব আলমের মাথায় আঘাত করে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রাখেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা লাইসেন্স করা ১২ বোর শটগান ছিনিয়ে নেন। একই সঙ্গে প্রাডো গাড়িসহ অপর ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যান। ছিনতাই হওয়া অস্ত্রটির সঙ্গে ১০টি কার্তুজ ছিল।
উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক সজিব হাসান জানান, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি কালো গাড়িতে করে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং আরেকজনকে মারধর করে তাঁর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের অন্য একটি সূত্র জানায়, ভিডিওতে নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে শটগান ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে অন্য একটি গাড়িতে তুলে অপহরণ করে নেওয়ার দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
আরেক উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম বলেন, একটি প্রাডো গাড়ি ও শটগান ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে যাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
সূত্র জানায়, আহত মাহবুব আলম সাবেক সেনাসদস্য। ছিনতাই হওয়া শটগানটি তাঁর ব্যক্তিগত ও বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত। ঘটনার দিন তাঁর কোনো ডিউটি ছিল না। তিনি কার সঙ্গে, কোথায় ও কী কারণে গিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আহত মাহবুব আলমকে প্রথমে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে মাহবুব আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ ইসমে আজম বলেন, ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লায় ছিলেন। খবর পাওয়ার পর থেকে তিনি বাবার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. রফিক আহমেদ জানান, হত্যাচেষ্টাসহ অস্ত্র ছিনতাই ও অপহরণের অভিযোগে মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত অস্ত্র ও অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশ আশাবাদী। সূত্র: আজকের পত্রিকা