ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, দেশ এবং জনগণের স্বার্থে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তিনি এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েল ইরানের সাধারণ মানুষ, হাসপাতাল ও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধবিরতির পরে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সেই বিরতি ভেঙেছে। তাই আরাঘচি মনে করেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নয় এবং একটি স্থায়ী সমাধান ছাড়া লড়াই চলবে।
আরাঘচি আরও বলেন, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা নতুন কিছু নয় এবং এটি গোপন নয়। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি যে, রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন সামরিক স্থাপনা শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে কিনা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যদি প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে হামলা চালাতে সহায়তা না করে, তবে ইরান তাদের ওপর হামলা করবে না। আরাঘচি বলেন, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে হামলা করেনি; তাদের লক্ষ্য ছিল মার্কিন ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ।
আরাঘচি আরও সতর্ক করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তাহলে ইরানের সৈনিকরা দেশ রক্ষায় প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া তিনি ট্রাম্পের দাবি যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে, তা মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। ইরান বর্তমানে ২০০০ কিলোমিটার সীমার মধ্যে নিজের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমাবদ্ধ রেখেছে।
এছাড়া আরাঘচি নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, এটি ইরানি জনগণের বিষয় এবং অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন নেতাকে নির্বাচন করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, ইরান নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করবে।