ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার লন্ডনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং দলীয় নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিদায়ী বক্তব্যে স্টারমার স্মরণ করেন ২০২৪ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা, যখন তিনি নতুন লেবার সরকারের নেতৃত্বে ১৪ বছর পর দলকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। তিনি বলেন, দুই বছর আগে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করা ছিল তার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হতাশার পর সেদিন ব্রিটেনের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
তবে এখন দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি। স্টারমারের ভাষ্য, লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশ মনে করেন আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের সেই মতামতকে সম্মান জানিয়ে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন।
ভাষণে তিনি উল্লেখ করেন, ছয় বছর আগে গভীর রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা লেবার পার্টির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এরপর দলকে পুনর্গঠন করে নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন।
নিজ সরকারের বিভিন্ন অর্জনের কথাও তুলে ধরেন স্টারমার। তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাস্থ্যসেবায় অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা কমেছে এবং শ্রমিক ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য কমাতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্টারমার জানান, লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
নিজের উত্তরসূরির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নতুন নেতা এমন একটি দেশের দায়িত্ব নেবেন, যা দুই বছর আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল এবং ন্যায়সংগত অবস্থানে রয়েছে।
ভাষণের শেষাংশে স্ত্রী ভিক এবং সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্টারমার। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এখন পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে চান এবং সন্তানদের জন্য সময় দেওয়াই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাবেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হলে তিনিই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।