ইরান চুক্তি এগিয়ে গেলে কি টলবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জনসমর্থন সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলেও দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এখনই নির্বাচন হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নেতানিয়াহুর ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান একযোগে ইরানে হামলা চালানোর পর দুই দেশের নেতৃত্ব এটিকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই সময় নেতানিয়াহু ইসরায়েলের জনগণকে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আগে কখনো এত ঘনিষ্ঠ ছিল না।

তবে তিন মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। যৌথ সামরিক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া অভিযান এখন কূটনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব সীমিত হয়ে এসেছে বলে ইসরায়েলি সূত্রগুলোর দাবি। প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা না করলেও আড়ালে ইসরায়েলি মহলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ফল নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির পরও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন। তাঁর আশঙ্কা, নতুন কোনো সমঝোতা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সমঝোতা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ কমে যেতে পারে বলে তাঁদের উদ্বেগ।

লেবানন ইস্যুও নেতানিয়াহুর জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইরান চায় আলোচনার কাঠামোর মধ্যে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয় অন্তর্ভুক্ত হোক। একই সময়ে হিজবুল্লাহর তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইসরায়েল সামরিক কার্যক্রম আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির সময় নেতানিয়াহু যেভাবে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছিলেন, এবার তেমন অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। বরং তাঁর কূটনৈতিক অবস্থান অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইসরায়েলি ও মার্কিন আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কিছু সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহু মার্কিন আলোচকদের অর্থনৈতিক সমঝোতামুখী অবস্থানকে দায়ী করছেন। তাঁর মতে, ইরান প্রশ্নে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে ইরানবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সামরিক অভিযান শেষে যদি কৌশলগত লক্ষ্য স্পষ্ট না হয়, তাহলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এক জরিপের বরাত দিয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলের একটি বড় অংশ মনে করছে ইরান পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হয়নি এবং দেশটি এখনো প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে সাময়িক জনসমর্থন বাড়লেও তা রাজনৈতিক স্থিতি নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্করের ৩ মামলায় জামিন সদ্য. এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সদ্য. পুনরায় বিয়ে না করার শর্তে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী-বিপত্নীক স্বামী সদ্য. আওয়ামী লীগের অপতৎপরতায় সরকার মোটেও শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. কওমি মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি বন্ধে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা সদ্য. নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন ৩৫ সফরসঙ্গী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আবারও আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত সদ্য. নতুন ২ বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন, উৎপাদন হবে ২৬৪০ মেগাওয়াট সদ্য. পল্লবীতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন সদ্য. সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্করের ৩ মামলায় জামিন সদ্য. এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সদ্য. পুনরায় বিয়ে না করার শর্তে আজীবন পেনশন পাবেন বিধবা স্ত্রী-বিপত্নীক স্বামী সদ্য. আওয়ামী লীগের অপতৎপরতায় সরকার মোটেও শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সদ্য. কওমি মাদ্রাসায় শারীরিক শাস্তি বন্ধে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা সদ্য. নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন ৩৫ সফরসঙ্গী সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আবারও আলোচনায় ঢাকা-দিল্লি সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত সদ্য. নতুন ২ বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন, উৎপাদন হবে ২৬৪০ মেগাওয়াট সদ্য. পল্লবীতে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন