বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নেন ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীন। এতে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, অর্থনীতি, পরিবেশ, পররাষ্ট্রনীতি এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
তারেক রহমান দাবি করেন, বিএনপির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগে রাজনৈতিক কর্মসূচি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সব বয়সের মানুষ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নিচ্ছেন। ‘দ্য প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের মতামত ও ভাবনা শুনছেন বলেও জানান।
পরিবেশ রক্ষায় বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, '২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং দুর্নীতি রোধ করা গেলে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।'
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, 'বিএনপি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে আবদ্ধ থাকবে না। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রাখা হবে।'
সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীন প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের অঙ্গীকার বাস্তবসম্মত কি না। বিশেষ করে ২০২৫ সালে দেশের জিডিপি যেখানে প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থনীতি পোশাক খাত ও রেমিট্যান্সনির্ভর—সেখানে এ লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, 'বর্তমানে অর্থনীতি দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও ভবিষ্যতে আইটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালকা প্রকৌশল, জুতা শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), খাদ্য খাত এবং সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।'
ব্যাংকিং খাতে ৩৬ শতাংশ ঋণখেলাপি এবং প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, 'এসব ঘটেছে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে। তখন জনগণের অর্থ লুটপাটে সরকারি প্রশ্রয় ছিল এবং কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি বিদ্যমান ছিল না।'
ভবিষ্যতে বিএনপির সরকার একই পথে হাঁটবে না—এর নিশ্চয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হলো একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।'