পাহাড়ের সবুজ আর স্বচ্ছ জলাশয়ে ফুটে থাকা লাল শাপলা—প্রকৃতির এমন অনন্য মেলবন্ধন দেখতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার হাজাছড়ায় প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। মেরুং ইউনিয়নের এই প্রাকৃতিক জলাশয়টি ধীরে ধীরে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য হয়ে উঠছে।
জলাশয়ের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলা এবং চারপাশের পাহাড়ি পরিবেশ মিলে তৈরি হয়েছে মনোরম দৃশ্য। শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে এখানে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ জলাশয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ ক্যামেরায় বন্দি করছেন লাল শাপলার অপরূপ দৃশ্য।
ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এলাকাটি। এক পাহাড়ি তরুণীর ভাষ্য, জায়গাটি অত্যন্ত সুন্দর। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে এখানে আরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটবে।
দীঘিনালা উপজেলা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের জানান, লাল শাপলা দেখতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছেন। তাঁর মতে, স্থানটি পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে হাজাছড়ার এই জলাশয়কে ঘিরে পর্যটন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, শাপলা না তোলা, জলাশয়ে আবর্জনা না ফেলা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকলেই অক্ষুণ্ন থাকবে হাজাছড়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
সদ্য সংবাদ/এজে