বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অন্ধকার হয়ে যায় অপারেশন থিয়েটার। চালু হয়নি বিকল্প জেনারেটরও। এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে টর্চ ও মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় দুই প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন চিকিৎসকরা। ভারতের বিহারের জামুই সদর হাসপাতালে ঘটেছে এ ঘটনা।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে প্রায় ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পূজা কুমারী ও অঞ্জনি কুমারী নামে দুই প্রসূতিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার চলাকালেই হঠাৎ পুরো হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সাধারণত বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জেনারেটর চালু হওয়ার কথা। কিন্তু সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে জেনারেটরও সচল হয়নি। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই অন্ধকারে ডুবে যায় অপারেশন থিয়েটার।
অস্ত্রোপচার মাঝপথে থামিয়ে দিলে দুই প্রসূতির জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা বিকল্প হিসেবে টর্চলাইট ও মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ডা. শালিনী কুমারী, ডা. রঘুনন্দন ও ওটি সহকারী অমিত কুমারের সমন্বয়ে গঠিত দলটি সীমিত আলোতেই দুই প্রসূতির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি হাসপাতালের সিভিল সার্জন ও সুপারিনটেনডেন্টকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়। পরে অস্ত্রোপচারকক্ষের ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে অন্ধকার অপারেশন থিয়েটারে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো ব্যবহার করে চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচার করতে দেখা যায়।
ভিডিওতে একজন নার্সকে অস্ত্রোপচারের স্থানে মোবাইলের আলো ধরে রাখতে দেখা যায়। ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অপারেশন থিয়েটারে আলো ছিল না এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।
এ ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। চিকিৎসকদের অভিযোগ, জামুই সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর মোবাইলের আলো ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একই ধরনের পরিস্থিতিতে জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের ম্যানেজার রমেশ পান্ডে। তার দাবি, হাসপাতালে এ ধরনের কোনো ঘটনা কখনো ঘটেনি এবং অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জামুই সদর হাসপাতালের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট ডা. থানেশ কুমার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জেনারেটর চালু না হওয়া এবং ওই পরিস্থিতিতে অস্ত্রোপচার পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: এনডিটিভি
সদ্য সংবাদ/এসকে