পাবনার ঈশ্বরদীতে ট্রলার দুর্ঘটনার দুই দিন পর পদ্মা নদী থেকে ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়লিয়া এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌরসভার কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়পাড়া এলাকার মৃত হাছান আলীর ছেলে। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) শৈলকূপার কাতলা ঘাট থেকে শতাধিক তরুণ ও যুবক একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে যান। ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাকশী রেলওয়ে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অতিক্রম করার সময় ট্রলারটি সেতুর একটি পিলারে ধাক্কা খায়।
ধাক্কার জেরে রাকিসহ তিন যাত্রী নদীতে পড়ে যান। সহযাত্রীরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে লিটন (৩৮) ও ওহাব (৪৫) নামে দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে রকি পানির স্রোতে তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ, ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। শুক্রবার ও শনিবার দিনভর পদ্মা নদীতে তল্লাশি চালিয়েও রকির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষীকুন্ডার চরকুড়লিয়া এলাকায় নদীর একটি শাখায় মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ট্রলার দুর্ঘটনার পর থেকেই রাকিবুজ্জামান রকি নিখোঁজ ছিলেন। স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে