গ্ল্যামার জগৎ থেকে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ নতুন কিছু না হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় এবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। দেশটির জাতীয় সংসদ বা ‘পিপলস অ্যাসেম্বলি’-তে সরাসরি সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা লাজকানি। তাকে মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা।
সিরিয়ার নির্বাচন সংক্রান্ত উচ্চতর কমিটি সংসদের চূড়ান্ত সদস্য তালিকা প্রকাশ করার পরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। সংবিধান অনুযায়ী দেশটির প্রেসিডেন্টের হাতে ৭০ জন সংসদ সদস্য মনোনীত করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। সেই ক্ষমতার আওতায় এবার বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধি যুক্ত করতে ৭০ জনকে মনোনীত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।
দামেস্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সংসদীয় কাজে বৈচিত্র্য আনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা যুক্ত করাই এই মনোনয়নের লক্ষ্য। এ তালিকায় নারী অংশগ্রহণও গুরুত্ব পেয়েছে। মোট ৭০ জন মনোনীত সদস্যের মধ্যে ১৫ জন নারী রয়েছেন, যা প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিনোদন অঙ্গনে পরিচিত মুখ রোজিনা লাজকানি সিরিয়ার হামা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন নাট্যকলায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন।
অভিনয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের আলোচিত সিরিজ আল-হায়বা-তে তার অভিনয় তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
এতদিন যিনি অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে উপস্থিত ছিলেন, এখন থেকে তিনি সিরিয়ার আইনসভায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিনোদন অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখদের রাজনীতিতে যুক্ত করার মাধ্যমে সরকার তরুণ সমাজ ও সাংস্কৃতিক মহলে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে।
তবে রোজিনা লাজকানির এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় কেমন হবে, তা নিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলছে নানা আলোচনা।