ট্রাফিক পুলিশের 'টার্গেট' মামলা: শৃঙ্খলা বনাম জনদুর্ভোগ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৫
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর যানজট নিরসনে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা অপরিহার্য। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও কোটি মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা নিরলস পরিশ্রম করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে 'টার্গেট' অনুযায়ী মামলা করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা এবং ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মহৎ উদ্দেশ্যকে ম্লান করে দিচ্ছে।

উদ্দেশ্য বনাম বাস্তবতা

ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে মামলা ও জরিমানা করার মূল লক্ষ্য হলো চালকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার মামলা দায়ের করে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। এই অভিযানগুলো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে চালানো হয় এবং তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

কিন্তু যখন এই মামলা দায়ের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা (টার্গেট) অর্জনে পরিণত হয়, তখন মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। অনেক সাধারণ চালক অভিযোগ করেন যে, সামান্য ভুল বা ক্ষেত্রবিশেষে কোনো ভুল ছাড়াই তাঁদের মামলার শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক এবং গণপরিবহনের চালকরা এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের মতে, পুলিশ অনেক সময় মানবিক দিক বিবেচনা না করে বা সঠিক কারণ ছাড়া মামলা দিচ্ছে।

আস্থার সংকট ও জনদুর্ভোগ

এই 'টার্গেট' ভিত্তিক মামলা সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করছে। যখন একজন সাধারণ নাগরিক মনে করেন যে, আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্য শৃঙ্খলা নয় বরং জরিমানা আদায়, তখন পুরো ব্যবস্থার প্রতিই তাঁদের বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। এটি আইন মানার মানসিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পুলিশের সাথে জনগণের দূরত্ব বাড়ায়।

এছাড়াও, মামলার জন্য গাড়ি থামানোর ফলে অনেক স্থানে কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেক সময় জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষজন অযথা হয়রানির শিকার হন।

প্রয়োজন নীতিগত পরিবর্তন

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ট্রাফিক পুলিশ বিভাগকে অবশ্যই তাদের কার্যপদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। লক্ষ্য হোক শৃঙ্খলা, সংখ্যা নয়: মামলার সংখ্যাকে কর্মদক্ষতার মাপকাঠি না বানিয়ে, বরং সড়ক দুর্ঘটনার হার কমানো এবং যানজট নিরসনকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি: আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: মামলা দায়ের এবং জরিমানা আদায়ের প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা হয়রানির অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও মানবিকতা: ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং চালকদের সাথে মানবিক আচরণ করার নির্দেশনা দিতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ—উভয়ের সহযোগিতাই এখানে জরুরি। ট্রাফিক পুলিশের 'টার্গেট' মামলার পরিবর্তে যদি প্রকৃত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তবেই একটি নিরাপদ এবং জনবান্ধব সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

 লেখক: এস এম ফয়েজ, সিনিয়র সাংবাদিক

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. পদ্মা সেতুর পর পাঁচ বছরে বিআইডব্লিউটিসির লোকসান ১৩৭ কোটি টাকা সদ্য. ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা সদ্য. আজ রাতেই উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সদ্য. মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন মির্জা ফয়সল আমীন-এলিজা জামান সদ্য. সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পোশাক শ্রমিক নেতারা সদ্য. ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন সদ্য. ভারতের ভোটার তালিকায় ৩ কোটি বাংলাদেশি, দাবি অমিত শাহের সদ্য. নোয়াখালীতে মাটির নিচে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মজুদ ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট সদ্য. বাড়ল অটোগ্যাসের দামও, রাতেই কার্যকর সদ্য. আদালতে যাওয়ার পথে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে মোটরসাইকেলে আগুন সদ্য. পদ্মা সেতুর পর পাঁচ বছরে বিআইডব্লিউটিসির লোকসান ১৩৭ কোটি টাকা সদ্য. ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা সদ্য. আজ রাতেই উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সদ্য. মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন মির্জা ফয়সল আমীন-এলিজা জামান সদ্য. সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন পোশাক শ্রমিক নেতারা সদ্য. ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২২ দিন সদ্য. ভারতের ভোটার তালিকায় ৩ কোটি বাংলাদেশি, দাবি অমিত শাহের সদ্য. নোয়াখালীতে মাটির নিচে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মজুদ ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট সদ্য. বাড়ল অটোগ্যাসের দামও, রাতেই কার্যকর সদ্য. আদালতে যাওয়ার পথে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে মোটরসাইকেলে আগুন