দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান এবং তার ছেলে মো. আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালতে তাদের হাজির করা হলে শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, দুদকের মামলায় একটি ফ্ল্যাটের মূল্য সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওই ফ্ল্যাট ব্যাংকঋণের মাধ্যমে কেনা হয়েছে এবং তার মূল্যকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর ভাষ্য, শাজাহান খানের বৈধ সম্পদের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং ২০১২ সাল থেকে নিয়মিত ওই সম্পদের বিপরীতে কর পরিশোধ করা হচ্ছে।
এদিন আদালতে হাজির করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাজাহান খান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।’
দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১- এ মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিবুর রহমানের নামে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩ টাকার স্থাবর এবং ৭ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৭ টাকা।
এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০১ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আয়, সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানকে এসব সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাজাহান খান ও তার পরিবারের সম্পদ ও আয়সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানের পর মামলার সুপারিশ করা হলে দুদকের অনুমোদন নিয়ে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
তবে মামলায় আনা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলোর আইনগত নিষ্পত্তি হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে