চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতে ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী সফিউল ইসলাম। শুনানিতে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে এবং সেসব তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর ডনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবী আরও জানান, ডন শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার স্থায়ী ঠিকানা থাকায় জামিন পেলে তিনি আদালতের প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাবেন না বলেও যুক্তি তুলে ধরা হয়।
তবে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিন ভোরে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে সিআইডির একটি দল তাকে হেফাজতে নেয়। এরপর মামলাটিতে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে গত বছরের ২১ অক্টোবর রমনা থানায় ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রিজভি আহমেদ ফারহাদের নাম রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ সংক্রান্ত মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রমনা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি নিয়ে একাধিক তদন্ত হয়েছে। বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার পর বিষয়টি হত্যা মামলা হিসেবে নতুন করে তদন্তের আওতায় আসে।
এদিকে হত্যা মামলা হওয়ার পর গত বছরের ২৭ অক্টোবর সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক এবং অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
সদ্য সংবাদ/এসএস